logo

FX.co ★ ৬ অক্টোবর কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

৬ অক্টোবর কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

সোমবারের ট্রেডিংয়ের বিশ্লেষণ:

EUR/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

৬ অক্টোবর কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

সোমবারও EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের দরপতন অব্যাহত ছিল। দিনের শুরুতেই ইউরোর দরপতন শুরু হয়, কারণ ট্রেডাররা তখন ইয়েমেনে যুদ্ধের সূচনা এবং ফ্রান্সের বাজেট সংকট সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে বিবেচনায় নিয়েছিল। মূলত, গত এক মাস ধরে আমরা ফরেক্স মার্কেটে একই চিত্র দেখছি: ট্রেডাররা মার্কিন ডলার কেনার কারণ খুঁজে বের করছেন এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নিচ্ছেন, অথচ ইউরোর পক্ষে কাজ করতে পারে এমন বিষয়গুলোকে তারা পুরোপুরি উপেক্ষা করছেন। উল্লেখ্য যে, ঠিক গত সপ্তাহেই ইউরোজোন ও জার্মানির মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবেদনের ফলাফল অনুযায়ী ইউরোর দর বৃদ্ধি পাওয়ার কথা ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার ও বেকারত্ব বিষয়ক প্রতিবেদনগুলোর ফলাফলও ইউরোর পক্ষে ইতিবাচক ছিল। ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক হকিশ বা কঠোর অবস্থান গ্রহণের প্রত্যাশা কমে আসাও ইউরোর জন্য ইতিবাচক হওয়ার কথা ছিল। তা সত্ত্বেও ট্রেডাররা এসব বিষয়কে উপেক্ষা করে চলেছে; তাই আমরা বর্তমান দরপতনের ধারাবাহিকতাকে কেবলই মোমেন্টাম-ভিত্তিক, অনুমান-নির্ভর এবং অযৌক্তিক বলেই মনে করছি। এই পেয়ারের মূল্য একবার ডিসেন্ডিং ট্রেন্ডলাইন অতিক্রম করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া সত্ত্বেও তা এখনও প্রাসঙ্গিক রয়ে গেছে।

EUR/USD পেয়ারের 5M চার্ট

৬ অক্টোবর কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

সোমবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে একটি সেল সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। ইউরোপীয় সেশনের সময় এই পেয়ারের মূল্য 1.1198 লেভেল থেকে বাউন্স করলেও মাত্র 17 পিপসের মতো দরপতন ঘটেছিল। ফলে, স্টপ লসের কারণে কোনো লাভ বা ক্ষতি ছাড়াই ব্রেকইভেনে শর্ট পজিশন ক্লোজ হয়ে যায়। এরপর রাতের বেলা আরেকটি সেল সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল, কিন্তু সেই ট্রেডটিও একইভাবে ক্লোজ হয়ে যায়।

মঙ্গলবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, EUR/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে যা এখন পূর্ণাঙ্গ প্রবণতায় রূপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোর ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনায়, হঠাৎ করেই ইউরোর ব্যাপক দরপতন ঘটবে—এমনটা আমরা মনে করছি না; তবে ট্রেডাররা এখনও মার্কিন ডলার ক্রয় করে যাচ্ছে এবং যেকোনো ইভেন্ট ও প্রতিবেদন উপেক্ষা করে চলেছে।

মঙ্গলবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.1198–1.1218 এরিয়ার নিচে স্থিতিশীল হলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1132–1.1140-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1198–1.1218 এরিয়ার উপর স্থিতিশীল হলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1267–1.1275-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

5-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1132–1.1140, 1.1198–1.1218, 1.1267–1.1275, 1.1366–1.1377, 1.1461–1.1474, 1.1527–1.1531, 1.1584–1.1594, 1.1655–1.1665। মঙ্গলবার ইউরোজোন খুচরা বিক্রয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে ADP থেকে সাপ্তাহিক কর্মসংস্থান সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। আমরা উভয় প্রতিবেদনকেই স্বল্প গুরুত্বসম্পন্ন হিসেবে বিবেচনা করছি এবং এগুলোর প্রভাবে মার্কেটে কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে বলে আশা করছি না। মার্কিন ডলারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা যেকোনো মুহূর্তে পুনরায় শুরু হতে পারে। পুনরায় ট্রেন্ডলাইনের উপরে অবস্থান নিশ্চিতভাবে বজায় রেখে ক্লোজিংয়ের পরেই কেবল ইউরোর মূল্য বৃদ্ধির আশা করা যেতে পারে।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account