স্বর্ণের মূল্য 0.8% বেড়ে প্রতি আউন্স $4,140-এর কাছাকাছি পৌঁছেছে। আগের দিন 2.5% দরপতনের পর রুপার দর 0.3% বেড়ে $59.97-এ পৌঁছেছে; এছাড়া প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের মূল্যও বেড়েছে।

স্বর্ণের এই ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে দুটি বিষয় ভূমিকা রেখেছে। বুধবার কাতার উপকূলে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়—পারস্য উপসাগরের এতটা গভীরে এ ধরনের হামলা বেশ বিরল ঘটনা—এবং খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, হোয়াইট হাউস নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছে। এছাড়া এক সপ্তাহের ছুটি শেষে চীনা ক্রেতারা মার্কেটে সক্রিয় হওয়ায় এশীয় মার্কেটগুলোতেও পুনরায় কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসে। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, এসব খবরের প্রভাবেও স্বর্ণের মূল্য 1%-এরও কম বেড়েছে; অর্থাৎ ট্রেডাররা ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে দীর্ঘমেয়াদী বা কাঠামোগত পরিবর্তনের কারণ হিসেবে না দেখে বরং সাময়িক বিরতি বা অস্থিরতার একটি কারণ হিসেবেই বিবেচনা করছে।
স্বর্ণের দরপতনের মূল কারণটিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ফেব্রুয়ারির শেষভাগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার পর থেকে এই মূল্যবান ধাতুটির মূল্য প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কমেছে। এর কারণ হলো, জ্বালানি তেলের ব্যাপক মূল্য বৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতিকে উসকে দিয়েছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে বাধ্য করছে—যা স্বর্ণের মতো কোনো সুদ বা লভ্যাংশ প্রদান না করা অ্যাসেটের জন্য অন্যতম প্রধান প্রতিকূল বিষয়। মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ যুদ্ধের আগের পর্যায়ের কাছাকাছি ফিরে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে; তবে উচ্চ ঝুঁকির কারণে পণ্য পরিবহনের খরচ রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি ঝড় জ্বালানি সরবরাহের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। মুদ্রাস্ফীতি এখনো উচ্চ পর্যায়ে থাকায় সুদের হারও বেশি রাখা হয়েছে, যার ফলে স্বর্ণের ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে।
ফেডারেল রিজার্ভের সেপ্টেম্বর মাসের বৈঠকের কার্যবিবরণী সেই চিত্রকেই আরও জোরালো করেছে। ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির ১৯ জন সদস্যই সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই মনে করেন যে, বছরের শেষ নাগাদ সুদের হার আরও একবার বাড়ানো উপযুক্ত হতে পারে। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, অক্টোবরের শেষের দিকের বৈঠকে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা প্রায় 20% এবং ডিসেম্বরে এই সম্ভাবনা প্রায় 80%।
আমার মতে, আগামী সেশনগুলোতে স্বর্ণের মূল্যের কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতাসহ একটি সীমিত রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট পরিলক্ষিত হতে পারে। ইরানের ওপর নতুন কোনো আঘাত বা জাহাজের ওপর হামলার ঘটনায় স্বর্ণের মূল্যের সাময়িক উত্থান ঘটতে পারে; তবে মার্কিন ডলারের দর বার্ষিক সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করায় এবং ডিসেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির 80% সম্ভাবনার কারণে, দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের মূল্যের বড় ধরনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সম্ভাবনা কম। স্বর্ণের মূল্যের টেকসই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা জন্য বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ হ্রাস, মার্কিন ডলারের দরপতন এবং জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস পাওয়া প্রয়োজন—যার কোনোটিই বর্তমানে পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবেদন এবং ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকের ওপর বিশেষ নজর রাখা জরুরি।

স্বর্ণের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের স্বর্ণের মূল্যকে নিকটতম রেজিস্ট্যান্স $4,186-এ পুনরুদ্ধার করতে হবে। এতে করে স্বর্ণের মূল্যের $4,249-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে; যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া তুলনামূলকভাবে কঠিন হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $4,304 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। দরপতনের ক্ষেত্রে স্বর্ণের মূল্য $4,124 লেভেলে থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। যদি তারা সফল হয়, এই রেঞ্জ ব্রেক করে স্বর্ণের মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনগুলোর উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং স্বর্ণের মূল্য $4,062-এ নেমে যেতে পারে, ও পরবর্তীতে সম্ভবত $4,047 পর্যন্ত দরপতন হতে পারে।
