logo

FX.co ★ ১৩ অক্টোবর কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

১৩ অক্টোবর কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

সোমবারের ট্রেডিংয়ের বিশ্লেষণ:

EUR/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

১৩ অক্টোবর কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

সোমবার EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত ছিল। গত সপ্তাহে ট্রেডাররা কিছুটা অপেক্ষা করেছিলেন এই আশায় যে, ইউরোর মূল্যের অন্তত সামান্য কারেকশন দেখা যাবে। তবে সোমবারের পরিস্থিতি থেকে এটি স্পষ্ট যে, সার্বিক পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। পুরো মাসজুড়েই যেমনটা দেখা গেছে, ট্রেডারদের মধ্যে এখনও ইউরো বিক্রি এবং ডলার ক্রয়ের ক্ষেত্রে দৃঢ় প্রবণতা বজায় রয়েছে। ইউরোর আরও দরপতন হওয়ার পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ছিল না—এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। সপ্তাহের প্রথম দিনের ট্রেডিংয়ে মূল আলোচনার বিষয় ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক ঘোষিত ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যকার জ্বালানি-সংক্রান্ত যুদ্ধবিরতি। তবে সকাল নাগাদই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায় যে, বাস্তবে এমন কোনো যুদ্ধবিরতি হয়নি এবং সোমবারও কিয়েভ ও মস্কো একে অপরের ওপর হামলা অব্যাহত রাখে। এই সংঘাতটি এখন পাঁচ বছরে গড়িয়েছে; অথচ ট্রাম্প গত দুই বছর ধরেই খুব শীঘ্রই রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত অবসানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন—ঠিক যেমনটি তিনি ইরানের সাথে মার্কিন সংঘাতের ক্ষেত্রেও টানা আট মাস ধরে বলে আসছেন। তাই, ট্রাম্প আরেকটি প্রতিশ্রুতি রাখতে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই মার্কিন ডলারের দর আবারও বেড়েছে—এমনটা বলা কঠিন।

EUR/USD পেয়ারের 5M চার্ট

১৩ অক্টোবর কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

সোমবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে চমৎকার একটি সেল সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। ইউরোপীয় সেশনের সময় এই পেয়ারের মূল্য 1.1198–1.1218 এরিয়ার নিচে অবস্থান নিয়ে সেশন শেষ করে, যা নতুন ট্রেডারদের শর্ট পজিশন ওপেন করার একটি স্পষ্ট সুযোগ করে দেয়। দিনশেষে এই পেয়ারের মূল্য প্রায় 30 পিপস হ্রাস পায়, যা থেকে ট্রেডাররা মুনাফা অর্জন করতে পারতেন।

মঙ্গলবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, EUR/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে যা এখন পূর্ণাঙ্গ প্রবণতায় রূপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোর ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনায়, হঠাৎ করেই ইউরোর ব্যাপক দরপতন ঘটবে—এমনটা আমরা মনে করছি না; তবে ট্রেডাররা এখনও মার্কিন ডলার ক্রয় করে যাচ্ছে এবং যেকোনো ইভেন্ট ও প্রতিবেদন উপেক্ষা করে চলেছে।

মঙ্গলবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.1132–1.1140 এরিয়ার নিচে স্থিতিশীল অবস্থান গ্রহণ করলে নতুন ট্রেডাররা নতুন শর্ট পজিশন বিবেচনা করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1088-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1132–1.114 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1198–1.1218-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

5-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1011, 1.1088, 1.1132–1.1140, 1.1198–1.1218, 1.1267–1.1275, 1.1366–1.1377, 1.1461–1.1474, 1.1527–1.1531, 1.1584–1.1594, 1.1655–1.1665। মঙ্গলবার জার্মানিতে সেপ্টেম্বর মাসের মুদ্রাস্ফীতির দ্বিতীয় প্রাক্কলন প্রকাশিত হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র বিদ্যমান আবাসন বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। উভয় প্রতিবেদনই তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ এবং ট্রেডাররা সম্ভবত এই প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল মার্কিন ডলারের অনুকূলে বিবেচনা করবে।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account