logo

FX.co ★ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও এআই খাত সংক্রান্ত ঝুঁকি প্রযুক্তি খাতে ব্যাপক আঘাত হেনেছে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও এআই খাত সংক্রান্ত ঝুঁকি প্রযুক্তি খাতে ব্যাপক আঘাত হেনেছে

গতকাল বিশ্বজুড়ে স্টক মার্কেটগুলোতে দরপতনের চাপ আরও তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও এশিয়ায় সেমিকন্ডাক্টর খাতভিত্তিক স্টকের দরপতন ঘটায় চলতি বছর এআই-ভিত্তিক স্টকগুলোতে যে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গিয়েছিল, তা উল্টো পথে মোড় নিয়েছে। MSCI এশিয়া প্যাসিফিক সূচক 2.8% কমে জুলাই মাসের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক—যা এআই-সংক্রান্ত বিনিয়োগ প্রবাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক—8% দরপতনের শিকার হওয়ায় সেখানে সাময়িকভাবে ট্রেডিং স্থগিত রাখতে হয়। স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স এবং এসকে হাইনিক্স—উভয় কোম্পানির স্টকই 10%-এর বেশি দরপতনের শিকার হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও এআই খাত সংক্রান্ত ঝুঁকি প্রযুক্তি খাতে ব্যাপক আঘাত হেনেছে

পশ্চিমা বিশ্বে চাপ অব্যাহত রয়েছে। নাসডাক 100 ফিউচার সূচক 0.9% হ্রাস পেয়েছে এবং সেশন শুরুর পরপরই ইউরোপীয় কন্ট্র্যাক্ট 1% হ্রাস পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে চিপ কোম্পানিগুলোর স্টক বিক্রির প্রবণতার মূল কারণ হলো গত পাঁচ মাসের মধ্যে দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতির দ্রুততম গতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন যে, ফেডারেল রিজার্ভ অক্টোবরে সুদের হার বাড়ানোর প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বিরতি দিলেও, ভবিষ্যতে সুদের হার আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসের শেষ নাগাদ সুদের হার প্রায় 40 বেসিস পয়েন্ট বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং অক্টোবরেই সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কিছুটা বেড়েছে।

বন্ড মার্কেটের প্রবণতা সাম্প্রতিক দিনগুলোর তুলনায় ভিন্ন ছিল। মূল্যস্ফীতির প্রতিবেদন প্রকাশের পর ট্রেজারি বন্ডের দর শুরুতে কমে গেলেও, বিনিয়োগকারীরা বহু বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি থাকা ইয়েল্ডকে আকর্ষণীয় মনে করায় তা দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়। এশীয় সেশনেও নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য অ্যাসেটগুলোর ট্রেডিং অব্যাহত ছিল। ১০ বছর মেয়াদী ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ 8 বেসিস পয়েন্ট কমে 5.11%-এ নেমে আসে; অন্যদিকে, ফেডারেল রিজার্ভের আর্থিক নীতিমালার প্রতি সবচেয়ে সংবেদনশীল দুই বছর মেয়াদী বন্ডের ইয়েল্ড 7 বেসিস পয়েন্ট কমে 4.72%-এ দাঁড়ায়।

মূল প্রশ্ন হলো, এআই খাতে করা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ফলপ্রসূ হবে কি না। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থেকে সৃষ্ট জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্যের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যে লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছে, তা আরও কঠোর মুদ্রানীতির সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে। কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর পেশকৃত আয়ের প্রতিবেদন উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে: এআইভিত্তিক অবকাঠামোর অর্থায়ন নিয়ে সন্দেহের মধ্যে কোরউইভের স্টকের 17% দরপতন ঘটেছে। রাসেল 2000 স্মল-ক্যাপ সূচকও কারেকশন টেরিটোরিতে নেমে এসেছে। আরও উদ্বেগের কারণ হলো, অ্যানথ্রোপিকের তৃতীয় প্রান্তিকের আয় ছিল মাত্র $16.8 বিলিয়ন ডলার—যা কিছু বিশ্লেষকের কাছে হতাশাজনক এবং বিশেষত উদ্বেগজনক, কারণ কোম্পানিটির আইপিও পরিকল্পনা এবং এআই খাতে বিনিয়োগের ওপর রিটার্ন নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে।

অন্যান্য মার্কেটগুলোতেও প্রত্যাশিতভাবেই প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়েছে। টানা তিন দিন দরপতনের পর স্বর্ণের মূল্য ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং প্রতি আউন্স $4,145-এর কাছাকাছি অবস্থান করছে (এর আগে যা ছিল প্রায় $4,164)। মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কমে আসায় ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের জ্বালানি তেলের দর 1.6% কমে প্রতি ব্যারেল $106.30 থেকে $104.35-এ নেমে এসেছে।

আমার মতে, যতক্ষণ স্টক মার্কেটে মুদ্রাস্ফীতি এবং এআই খাতে বিনিয়োগের ঝুঁকি—দুইটি বিষয়কেই বিবেচনায় নেয়া হবে, ততক্ষণ প্রযুক্তি খাতভিত্তিক স্টকগুলোর মূল্যের অস্থিরতা বজায় থাকবে এবং স্টকের মূল্য বাড়লেও তা হবে দুর্বল ও ক্ষণস্থায়ী। জ্বালানি তেলের মূল্য যদি কমতে থাকে এবং বন্ডের ইয়েল্ড হ্রাস পায়, তবে স্টক মার্কেট কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে; কিন্তু সার্বিক পরিস্থিতির টেকসই পরিবর্তনের জন্য ফেডারেল রিজার্ভের কাছ থেকে স্পষ্ট সংকেত পাওয়া প্রয়োজন। শুক্রবার ব্যাংককে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ বক্তব্য দেবেন, সেদিকে সবার নজর থাকবে। তাঁর বক্তব্যে যদি হকিশ বা কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তবে তা এশিয়ার স্টক মার্কেট এবং এআই খাতের সাথে সংযুক্ত কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও এআই খাত সংক্রান্ত ঝুঁকি প্রযুক্তি খাতে ব্যাপক আঘাত হেনেছে

টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট অনুযায়ী S&P 500 সূচকের ক্রেতাদের প্রধান কাজ হবে সূচকটির মূল্যের $7,698-এর নিকটতম রেজিস্ট্যান্স অতিক্রম করানো। এটি আরও উর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিশ্চিত করবে এবং $7,718-এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত করবে। সূচকটির দর $7,737-এর উপর ধরে রাখাও ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ফলে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। যদি ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা কমে গিয়ে দরপতন হয়, তাহলে সূচকটির দর $7,679-এ থাকা অবস্থায় বায়ারদের সক্রিয় হতে হবে। এই লেভেল ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে সূচকটির মূল্য দ্রুত $7,656-এ নেমে যেতে পারে এবং $7,633 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনা রয়েছে।

* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account