logo

FX.co ★ সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ প্রশমিত হওয়ায় জ্বালানি তেলের মূল্য কিছুটা কমেছে

সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ প্রশমিত হওয়ায় জ্বালানি তেলের মূল্য কিছুটা কমেছে

মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কিছুটা কমে আসায় এবং ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি আসন্ন চাহিদার পূর্বাভাস কমিয়ে দেওয়ায় আজ জ্বালানি তেলের সামান্য দরপতন ঘটেছে। চলতি সপ্তাহের প্রথম তিন কার্যদিবসে 1.3% বৃদ্ধির পর ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের তেলের মূল্য কমে ব্যারেল প্রতি $104-এর কাছাকাছি নেমে এসেছে; গতকাল মূল্য $106.30-এর আশেপাশে অবস্থান করছিল। ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের মূল্য বর্তমানে $94-এর কাছাকাছি অবস্থান করছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত, কারণ সাম্প্রতিক দিনগুলোতে নতুন করে হামলার খবরের প্রেক্ষিতে জ্বালানি তেলের মূল্য বারবার বেড়ে গিয়েছিল; অথচ আজ প্রথমবারের মতো কমোডিটি মার্কেট থেকে ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ প্রশমিত হওয়ায় জ্বালানি তেলের মূল্য কিছুটা কমেছে

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনও বেশ উদ্বেগজনক। ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনী সৌদি আরবের ভূখণ্ডে ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে; তবে বিশ্বের বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক দেশ থেকে তেল সরবরাহে এর কোনো প্রভাব পড়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এক্ষেত্রে IEA-এর পূর্বাভাস বিশেষ উল্লেখযোগ্য। ধারণা করা হচ্ছে, এ বছর বিশ্বজুড়ে দৈনিক তেল ব্যবহারের পরিমাণ ২৬ লাখ ব্যারেল হ্রাস পাবে—যা এক মাস আগের ধারণার চেয়ে ১ লাখ ব্যারেল বেশি। সংস্থাটির মতে, চাহিদার প্রবৃদ্ধি মার্চ মাসের আগে আগের অবস্থায় ফিরে আসবে না। চাহিদার এই দুর্বলতা এশিয়া ও ইউরোপের মতো তেল ব্যবহারকারী অঞ্চলগুলোর জন্য সুবিধাজনক হলেও, উৎপাদকরা কম দামের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন; পাশাপাশি তাদের ওপর পরিবহন সংক্রান্ত ঝুঁকিও রয়ে গেছে।

তা সত্ত্বেও, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের জেরে কয়েক মাস ধরে চলা অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি এখনো বেশ টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। এর প্রভাবে বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দর ৭০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। তেল ব্যবহারকারী দেশগুলো তাদের মজুত থেকে তেল খরচ করছে, যার ফলে স্থলভাগে অপরিশোধিত তেলের মজুত গত অন্তত দশ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এছাড়া, জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় পণ্য পরিবহনের খরচও বেড়ে গেছে, যা সরাসরি তেলের মূল্যের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। এসব কারণে, আজকের দরপতনকে দীর্ঘস্থায়ী কোনো পরিবর্তন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই—কারণ সরবরাহের কাঠামোগত ঘাটতি এখনো রয়ে গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে পরিবহন ব্যবস্থাও আরও নেতিবাচক দিকে মোড় নিচ্ছে। অনেক ট্যাঙ্কার এখন তেল লোড করার প্রচলিত এলাকাগুলো এড়িয়ে চলছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের ক্রমবর্ধমান হামলা রপ্তানি প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে। একই সময়ে, বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে পণ্য পরিবহনের খরচ কমাতে যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু জাহাজের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথা ভাবছে, যেগুলো রাশিয়া, ইরান ও ভেনিজুয়েলা থেকে তেল পরিবহন করে থাকে (এগুলোকে 'শ্যাডো ফ্লিট' বা গোপন নৌবহর বলা হয়)। এতে কিছু জাহাজ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে, তবে কোম্পানিগুলো আদৌ সেগুলো ব্যবহার করবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

উত্তেজনা প্রশমনের কূটনৈতিক সম্ভাবনা এখনো বেশ অস্পষ্ট। এই অনিশ্চয়তা এক দীর্ঘস্থায়ী ও স্থবির সংঘাতের ইঙ্গিত দেয়, যেখানে মাঝেমধ্যে কিছু ইতিবাচক খবর এলেও নতুন নতুন হামলার কারণে তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পরিস্থিতি যদি আবার পূর্ণমাত্রার সংঘাতের দিকে মোড় নেয়, তবে জ্বালানি তেলের মূল্য আবারও দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।

সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ প্রশমিত হওয়ায় জ্বালানি তেলের মূল্য কিছুটা কমেছে

যদিও হুথি বাহিনী এখনও সৌদি আরবের রপ্তানি কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায়নি এবং চাহিদা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে, তবুও ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য $104-এর আশপাশে অবস্থান করার সম্ভাবনা রয়েছে; বড় ধরনের কোনো হামলা না ঘটলে আরও দরপতন হতে পারে। তবে, এই পরিস্থিতিকে পুরোপুরিভাবে নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়া যায় না—কারণ জ্বালানি মজুত বর্তমানে কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে, পণ্য পরিবহনের খরচ অনেক বেশি, এবং 'স্থবির একটি সংঘাত' যেকোনো মুহূর্তে হঠাৎ তীব্র আকার ধারণ করার ঝুঁকি বহন করে।

জ্বালানি তেলের মূল্যের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের জ্বালানি তেলের মূল্যকে নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $96-এ নিয়ে যেতে হবে। এতে করে জ্বালানি তেলের মূল্যের $100-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $104 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। যদি তেলের দরপতন হয়, তাহলে মূল্য $82-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। তারা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তেলের মূল্য $89 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, যেখানে পরবর্তীতে $87 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনাও রয়েছে।

* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account