logo

FX.co ★ সৌদি আরবে হামলার পর জ্বালানি তেলের মূল্য বেড়েছে, এখনও কোনো কূটনৈতিক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না

সৌদি আরবে হামলার পর জ্বালানি তেলের মূল্য বেড়েছে, এখনও কোনো কূটনৈতিক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না

জ্বালানি তেলের মূল্য আবারও বাড়ছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে রপ্তানি বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও সৌদি আরবে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে গেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দর ব্যারেলপ্রতি প্রায় $111-এ অবস্থান করছে, এবং ডব্লিউটিআই-এর দর $100-এর কাছাকাছি পৌঁছেছে।

সৌদি আরবে হামলার পর জ্বালানি তেলের মূল্য বেড়েছে, এখনও কোনো কূটনৈতিক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না

সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরামকোর শায়বাহ তেলক্ষেত্রে একটি ড্রোন হামলায় দুজন কর্মী নিহত হয়েছেন, তবে এতে তেল উৎপাদন ব্যাহত হয়নি। দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আরেকটি হামলায় একজন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে, যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরব থেকে মার্কিন দূতাবাসের কিছু কর্মী ও তাঁদের পরিবারকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

উল্লেখ্য যে, বছরের শুরু থেকে ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের জ্বালানি তেলের মূল্য ৮০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে পারস্য উপসাগর দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে; এই সংঘাত এখন নবম মাসে গড়িয়েছে, অথচ সমাধানের কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। একই সময়ে, অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিবহনের পরিমাণ বেড়েছে এবং তা যুদ্ধের আগের পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছেছে—যদিও ধরা পড়া এড়াতে ট্যাঙ্কারগুলো তাদের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখছে।

গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মজুত সংক্রান্ত সরকারি তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে: দেশটিতে অপরিশোধিত তেলের মজুত ৩০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি কমেছে, কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ থেকে আরও ৩ লাখ ব্যারেল তেল নেওয়া হয়েছে এবং ডিস্টিলেট (জ্বালানি তেলজাত পণ্য) মজুত প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল বেড়েছে, যা ডিজেল ও জ্বালানি তেলের বাজারে কিছুটা স্বস্তি এনেছে।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিই এখন মূল নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ওপর হামলা জোরদার করেছে এবং ইরানের মদতপুষ্ট হুথি বিদ্রোহীরা প্রায়ই সৌদি আরবে হামলা চালাচ্ছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর জানিয়েছে যে, উত্তর পারস্য উপসাগরে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের সময় চারটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা চালানো হয়েছে; তবে এই হামলার সুনির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের ওপর নতুন করে হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

ইতোমধ্যে, ট্রাম্পের সঙ্গে মস্কোর করা চুক্তির আওতায় প্রায় ৪০,০০০ টন (প্রায় ৩,০০,০০০ ব্যারেল) রুশ ডিজেল বহনকারী একটি ট্যাঙ্কার বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে চলমান সংঘাত এবং নির্বাচনের পর পরিস্থিতির নতুন করে অবনতির ঝুঁকির ফলে জ্বালানি তেলের মূল্য কমছে না; ফলে কারেন্সি মার্কেটে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এসব পরিস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে, জ্বালানি তেলের মূল্য উচ্চপর্যায়েই রয়ে গেছে—অর্থাৎ সামরিক ঝুঁকির তুলনায় রপ্তানি বৃদ্ধি এবং ওয়াশিংটনের মূল্য কমানোর নীতিমালা এখনও যথেষ্ট প্রভাব ফেলতে পারছে না। কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অনুপস্থিতিতে ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের জ্বালানি তেলের মূল্য প্রতি ব্যারেল $110-এর কাছাকাছিই থাকবে।

সৌদি আরবে হামলার পর জ্বালানি তেলের মূল্য বেড়েছে, এখনও কোনো কূটনৈতিক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না

জ্বালানি তেলের মূল্যের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের জ্বালানি তেলের মূল্যকে নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $101-এ নিয়ে যেতে হবে। এতে করে জ্বালানি তেলের মূল্যের $105-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $109 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। যদি তেলের দরপতন হয়, তাহলে মূল্য $98-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। তারা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তেলের মূল্য $95 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, যেখানে পরবর্তীতে $92 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনাও রয়েছে।

* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account