
অস্থির একটি সপ্তাহ পার করার পর স্টক মার্কেট আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, কারণ বিনিয়োগকারীরা প্রযুক্তি খাতভিত্তিক বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কোম্পানির আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন। টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো দরপতনের পর নাসডাক 100 ফিউচার সূচক প্রায় 0.3% হ্রাস পেয়েছে; এছাড়া মার্কিন চিপমেকার সূচকটি নভেম্বর মাসের পর সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নিম্নমুখী প্রবণতায় রয়েছে। এশীয় স্টক সূচকগুলো সামান্য উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর প্রায় 0.1% হ্রাস পেয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক প্রায় 1.5% হ্রাস পেয়েছে। ইউরোপীয় সূচকগুলো প্রায় 0.3% ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সাথে সেশন শুরু করতে যাচ্ছে।
এআই খাতে চাপ অব্যাহত রয়েছে। চীনের এআই মডেল নির্মাতারা উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে পড়েছে এবং জাপানের নিক্কেই সূচকে চিপ-সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর স্টক সবচেয়ে নেতিবাচক ফলাফল প্রদর্শন করেছে। অন্যদিকে, বন্ড মার্কেটে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে; মুডি'স কর্তৃক ফ্রান্সের ক্রেডিট রেটিং অবনমন না হওয়ায় এবং দেশটিতে পুনরায় বড় ধরনের অস্থিরতা না ঘটায় ফরাসি বন্ডের দর বেড়েছে, যা জার্মান বন্ড মার্কেটের ফলাফল ছাড়িয়ে গেছে। একই সঙ্গে ইউরোর মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশের হার 3 বেসিস পয়েন্ট কমে 4.97%-এ নেমে এসেছে।
সামনে অত্যন্ত ব্যস্ত একটি সপ্তাহ অপেক্ষা করছে। মাইক্রোসফট, অ্যালফাবেট এবং অ্যামাজনের আয়ের প্রতিবেদনের মাধ্যমে ট্রেডাররা এখন এআই খাতে করা বিনিয়োগের মূল্যায়ন করবে। একই সময়ে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির চড়া দাম এবং বিশ্বজুড়ে সরকারি বন্ডের উচ্চ মুনাফার হারের প্রেক্ষাপটে ফেডারেল রিজার্ভ ও ব্যাংক অফ জাপান তাদের নীতিগত সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিতে যাচ্ছে। ভূ-রাজনৈতিক নানা খবরের আধিপত্যে কেটে যাওয়া কয়েক সপ্তাহের পর, এখন সবার মনোযোগ আবারও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং সুদের হারের দিকে ফিরে আসছে।
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির বিষয়ে ট্রাম্প বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় যাওয়া উচিত হবে না কি তাদের একেবারে 'শেষ' করে দেওয়া হবে—সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে; তবে সপ্তাহান্তে এ নিয়ে নতুন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনার জন্য সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের আতিথ্য দেওয়ার কথা রয়েছে ইরানের।
এই প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের মূল্য কিছুটা কমেছে। ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের জ্বালানি তেলের মূল্য দাম ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ লেভেল থেকে 1.5% কমে প্রতি ব্যারেল $114.95-এ নেমে এসেছে, যা স্টক মার্কেটের ট্রেডারদের জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে এনেছে। শুক্রবার স্বর্ণের মূল্য আউন্স প্রতি $4,000-এর নিচে নেমে গিয়েছিল; তবে সপ্তাহ শেষে তা $4,015-এর কাছাকাছি লেভেলে ট্রেড করা হয়েছে। মার্কেটে লিকুইডিটি সংকট এবং জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্যের কারণে স্বর্ণ এখনো চাপের মুখে রয়েছে।
এসব থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, ট্রেডাররা এখন অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণের অবস্থান গ্রহণ করেছে, যেখানে প্রযুক্তি খাতের আয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সিদ্ধান্তই স্টক মার্কেটের পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ধারণ করবে। আমার মতে, মাইক্রোসফট, অ্যালফাবেট এবং অ্যামাজনের আয়ের প্রতিবেদনের ফলাফল যদি বিনিয়োগকারীদের এই বিষয়ে আশ্বস্ত করতে না পারে যে এআই খাতে করা মূলধনী ব্যয় শেষ পর্যন্ত আয় ও মুনাফায় রূপান্তরিত হচ্ছে, তবে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারগুলো চাপের মুখেই থাকবে এবং নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বন্ডের চাহিদা বজায় থাকবে। এছাড়া, কোম্পানিগুলোর আয়ের শক্তিশালী ফলাফল এবং ওয়াশিংটনের নীতি-নির্ধারণী অবস্থানে কোনো উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি না হলে, তেলের মূল্য ও বন্ডের ইয়েল্ড আরও কমে আসতে পারে, যা পরোক্ষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটগুলোর জন্য সহায়ক হবে।
টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট অনুযায়ী S&P 500 সূচকের ক্রেতাদের প্রধান কাজ হবে সূচকটির মূল্যের $7,633-এর নিকটতম রেজিস্ট্যান্স অতিক্রম করানো। এটি আরও উর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিশ্চিত করবে এবং $7,656-এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত করবে। সূচকটির দর $7,679-এর উপর ধরে রাখাও ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ফলে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। যদি ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা কমে গিয়ে দরপতন হয়, তাহলে সূচকটির দর $7,607-এ থাকা অবস্থায় বায়ারদের সক্রিয় হতে হবে। এই লেভেল ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে সূচকটির মূল্য দ্রুত $7,574-এ নেমে যেতে পারে এবং $7,544 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনা রয়েছে।
