logo

FX.co ★ কূটনীতির মাধ্যমে উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে এই প্রত্যাশায় জ্বালানি তেলের দরপতন ঘটেছে

কূটনীতির মাধ্যমে উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে এই প্রত্যাশায় জ্বালানি তেলের দরপতন ঘটেছে

আজও ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ লেভেল থেকে জ্বালানি তেলের দরপতন অব্যাহত রয়েছে, কারণ ট্রেডাররা আশা করছে যে কূটনীতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়া রোধ করা সম্ভব হবে। আগের সেশনে প্রায় 1% দরপতনের পর ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের জ্বালানি তেলের মূল্য ব্যারেলপ্রতি $115-এর নিচে নেমে এসেছে এবং ডব্লিউটিআই-এর দর $101-এর কাছাকাছি অবস্থান করছে।

কূটনীতির মাধ্যমে উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে এই প্রত্যাশায় জ্বালানি তেলের দরপতন ঘটেছে

তেহরানে অনুষ্ঠিত আলোচনা থেকে কিছুটা আশাব্যঞ্জক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সোমবার সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে পৌঁছান। ইরানের সংবাদ সংস্থা আইআরআইবি-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আরও আলোচনার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্যমতে, ইরান জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি সাত দিনের মধ্যে তাদের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়, তবে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে তারা নমনীয় হতে পারে। বর্তমানে মার্কিন বাহিনী ইরানের বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করে রেখেছে, যার ফলে দেশটির তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে; অথচ একই সময়ে তারা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য তেল উৎপাদনকারী দেশের ট্যাঙ্কার চলাচলে সহায়তা করছে।

যদিও এই অঞ্চল থেকে তেল সরবরাহ প্রায় যুদ্ধপূর্ব পর্যায়ে ফিরে এসেছে এবং পণ্য পরিবহনের ব্যয়ও এখনও অনেক উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে, তবুও ঝুঁকির মাত্রা এখনো তীব্র। এখন এমন এক পরিস্থিতি বজায় রয়েছে, যেখানে জ্বালানি তেলের মূল্যের বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। আজ ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় তেহরানের বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অন্যদিকে, তার প্রতিদ্বন্দ্বী গাডি আইজেনকোট বলেছেন যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অবশ্যই বন্ধ করতে হবে, তবে সরকার পরিবর্তনের বিষয়টি "বাস্তবসম্মত নয়"। এদিকে, মস্কোতে আয়োজিত এক জ্বালানি সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরান ও কাতারের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করছেন—উল্লেখ্য, রাশিয়া তেহরানের অন্যতম প্রধান মিত্র। বুধবার ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে এবং ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, নির্বাচনের পর ইরানের ওপর পুনরায় হামলা শুরু হতে পারে।

এর মানে, জ্বালানি তেলের মূল্য এখন কূটনৈতিক উদ্যোগের আশাবাদ এবং সংঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কার মধ্যে দোদুল্যমান অবস্থায় রয়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন সামনে রেখে এবং ইরানের ওপর অবরোধ অব্যাহত থাকায় জ্বালানি তেলের মূল্য উচ্চপর্যায়ে বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে; পাশাপাশি বিভিন্ন খবরের প্রতি জ্বালানি তেলের মূল্য অত্যন্ত সংবেদনশীল থাকবে। তেহরানে অনুষ্ঠিত আলোচনায় হরমুজ প্রণালীর ব্যাপারে যদি দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জিত হয়, তবে ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের জ্বালানি তেলের মূল্য $110-এর অনেক নিচে নেমে আসতে পারে; আর যদি এই আলোচনা ব্যর্থ হয়, তবে তেলের মূল্য আবারও সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ লেভেলে ফিরে আসতে পারে।

কূটনীতির মাধ্যমে উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে এই প্রত্যাশায় জ্বালানি তেলের দরপতন ঘটেছে

জ্বালানি তেলের মূল্যের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের জ্বালানি তেলের মূল্যকে নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $101-এ নিয়ে যেতে হবে। এতে করে জ্বালানি তেলের মূল্যের $105-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $109 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। যদি তেলের দরপতন হয়, তাহলে মূল্য $98-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। তারা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তেলের মূল্য $95 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, যেখানে পরবর্তীতে $92 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনাও রয়েছে।

* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account