logo

FX.co ★ শুক্রবারের দরপতনের পর স্টক মার্কেট ঘুরে দাঁড়িয়েছে

শুক্রবারের দরপতনের পর স্টক মার্কেট ঘুরে দাঁড়িয়েছে

গত সপ্তাহে প্রযুক্তি খাতভিত্তিক শেয়ারের বড় ধরনের দরপতনের পর, আজ এশীয় স্টক মার্কেটের ফিউচার সূচকগুলো ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। S&P 500 এবং নাসডাক 100 সূচকের কন্ট্রাক্টগুলো অন্তত 0.4% বেড়েছে; ইউরোপীয় ফিউচার সূচকগুলোরও উত্থান ঘটেছে, যা মূল ক্যাশ মার্কেটে শক্তিশালী শুরুর ইঙ্গিত দিচ্ছে। MSCI এশিয়া-প্যাসিফিক সূচকের অন্তর্ভুক্ত অধিকাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে—এর মধ্যে কোরিয়া ও হংকংয়ের স্টক মার্কেট ঊর্ধ্বমুখী হলেও জাপান কিছুটা পিছিয়ে ছিল। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার নাসডাক 100 সূচক 3.5% দরপতনের শিকার হয়েছিল, যা জুন মাসের পর সূচকটির জন্য সবচেয়ে খারাপ দিন ছিল।

শুক্রবারের দরপতনের পর স্টক মার্কেট ঘুরে দাঁড়িয়েছে

প্রযুক্তি খাতভিত্তিক আয়ের প্রতিবেদনই এই ব্যাপক বিক্রির সূত্রপাত ঘটায়। শুক্রবারের দরপতন এটাই প্রমাণ করেছে যে, যেসব কোম্পানির মূল ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির গতিশীলতা কমে আসছে অথচ এআই খাতে বিনিয়োগ বাড়ছে, বিনিয়োগকারীরা তাদের প্রতি কম সহনশীলতা প্রদর্শন করছে। অ্যালফাবেট এবং অ্যামাজনের আয়ের প্রতিবেদনের হতাশাজনক ফলাফল এই আশঙ্কাকে নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে যে, এআই খাতে বিনিয়োগ সেইসব কোম্পানিরই নগদ অর্থের প্রবাহ কমিয়ে দিচ্ছে, যারা এতে অর্থায়ন করছে। রক্ষণশীল স্টক এবং বন্ডগুলো এর থেকে লাভবান হয়েছে; অন্যদিকে এআই খাতের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিবিওই ভোলাট্যালিটি সূচক এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, সুরক্ষামূলক অপশনের চাহিদা বেড়েছে এবং স্টকগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধি পেয়েছে — যদিও এই হার মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান আক্রমণের সময় দেখা যাওয়া আকস্মিক বৃদ্ধির চেয়ে অনেক নিচে রয়েছে।

এশিয়ার মার্কেটে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। চীনের স্টক মার্কেটে উত্থান ঘটেছে; কারণ এমন খবর পাওয়া গেছে যে, আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো মার্কেটকে সহায়তা করার বিষয়ে ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোর সঙ্গে বৈঠক করবে। এছাড়া, চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, দেশটির ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সিকিউরিটিজ নিয়ন্ত্রক সংস্থা শেয়ার পুনঃক্রয়ের জন্য ঋণ কর্মসূচি নিয়ে পর্যালোচনা করছে। গত সপ্তাহে 2.9% দরপতনের পর সিএসআই 300 সূচক 1.3% বেড়েছে এবং প্রযুক্তি খাতভিত্তিক সূচক স্টার 50 সূচক 2.8% বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, জাপানের কিওক্সিয়ার শেয়ারের দর টোকিওতে 17% হ্রাস পেয়েছে। এর কারণ হলো কোম্পানিটি মেমোরি চিপের বিষয়ে সতর্ক পূর্বাভাস দিয়েছে, যা এমন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে যে—এআই-এর প্রভাবে যে উল্লম্ফন দেখা গিয়েছিল, তা হয়তো এখন স্থিমিত হয়ে আসছে।

মরগান স্ট্যানলির বিশ্লেষকরা ধারণা করছে যে অদূর ভবিষ্যতে স্টক মার্কেটে বেশ কিছু "শুদ্ধি প্রক্রিয়া" ঘটতে পারে, যা সাময়িকভাবে শেয়ারের দর কমিয়ে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে পারে। বার্কলেসের বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলো এআই খাতের উপর ভর করে ট্রেডিংয়ের "সমাপ্তি" নির্দেশ করে না—বরং এটি একটি স্বাভাবিক কারেকশন প্রক্রিয়া বলে মনে হচ্ছে। ২০২৬ সালের শুরুর দিকেও এমন দুটি পুলব্যাক দেখা গিয়েছিল, যার পরবর্তী সময়ে শেষ পর্যন্ত আয়ের সক্ষমতাই জয়ী হয়েছিল।

ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন নির্বাচনের পর ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য আরও সময় নিতে চান—এমন খবরের পরিপ্রেক্ষিতে ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের জ্বালানি তেলের মূল্য 2.9% কমে প্রতি ব্যারেল $110.16-এ নেমে এসেছে, যা বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া, বাইন্যান্স হ্যাক হওয়ার ঘটনায় গত সপ্তাহে বিটকয়েনের দরপতন ঘটলেও, এখন তা আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

আজ মার্কিন স্টক মার্কেটগুলো ঘুরে দাঁড়ানোর মাধ্যমে ট্রেডিং শুরু করবে বলে আশা করছি, তবে এখনই একে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তনের ইঙ্গিত বলাটা তাড়াহুড়ো হবে। শুক্রবার সেমিকন্ডাক্টর খাতের ওপর যে বড় আঘাত এসেছে, তার প্রভাবে মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচন এবং এনভিডিয়ার আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত মার্কেটে বাড়তি অস্থিরতা দেখা যেতে পারে। জ্বালানি তেলের মূল্য যদি $110-এর নিচে থাকে, তবে এই ঘুরে দাঁড়ানোর প্রবণতা কয়েক সেশন পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে; কিন্তু কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে প্রযুক্তি খাতের ওপর পুনরায় চাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শুক্রবারের দরপতনের পর স্টক মার্কেট ঘুরে দাঁড়িয়েছে

টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট অনুযায়ী S&P 500 সূচকের ক্রেতাদের প্রধান কাজ হবে সূচকটির মূল্যের $7,633-এর নিকটতম রেজিস্ট্যান্স অতিক্রম করানো। এটি আরও উর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিশ্চিত করবে এবং $7,656-এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত করবে। সূচকটির দর $7,679-এর উপর ধরে রাখাও বায়ারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ফলে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। যদি ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা কমে গিয়ে দরপতন হয়, তাহলে সূচকটির দর$7,607-এ থাকা অবস্থায় বায়ারদের সক্রিয় হতে হবে। এই লেভেল ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে সূচকটির মূল্য দ্রুত $7,574-এ নেমে যেতে পারে এবং $7,544 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনা রয়েছে।

* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account