logo

FX.co ★ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার ওপর ট্রেডারদের বাজি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার ওপর ট্রেডারদের বাজি

সোমবার অপরিশোধিত তেলের দর 7%-এরও বেশি কমে যাওয়ার পর আজ কিছুটা পুনরুদ্ধার পরিলক্ষিত হয়েছে। সোমবার ব্রেন্ট এবং ডব্লিউটিআই—উভয় ধরনের তেলের মূল্যই প্রায় 7% হ্রাস পায়, যা অক্টোবর মাসে অর্জিত ছয় মাসের সর্বোচ্চ দর থেকে একটি বড় দরপতন ছিল। গত সপ্তাহের শেষ দিকেও ব্রেন্ট গ্রেডের অপরিশোধিত তেলের দর প্রায় $116-এ অবস্থান করছিল; ফলে গত কয়েক মাসের মধ্যে এটি অন্যতম তীব্র দরপতন ছিল।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার ওপর ট্রেডারদের বাজি

এর পেছনে দুটি মূল কারণ রয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্টের বর্ধিত ক্ষমতা সংক্রান্ত মন্তব্য এবং ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক সমাধানের ব্যাপারে অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার আশা জেগে উঠেছে। একই সময়ে, ফিজিক্যাল মার্কেটে দুর্বলতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। মনে রাখা প্রয়োজন যে, জুলাই মাসে সাময়িক যুদ্ধবিরতির ফলে ট্যাঙ্কারগুলোর হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হওয়ার পর জ্বালানি তেলের মূল্যে ধস নেমেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিও অনেকটা একই রকম, তবে ততটা নাটকীয় নয়। অক্টোবর মাসে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক ও কুয়েত তাদের সম্মিলিত রপ্তানি প্রায় ১০ শতাংশ বাড়িয়ে দৈনিক ১৫ মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশিতে নিয়ে গেছে—যা কার্যত সংঘাত-পূর্ববর্তী পর্যায়ে ফিরে আসার সমান—অন্যদিকে ইরানের রপ্তানি কার্যত বন্ধই রয়েছে।

জুনের পরিস্থিতির সাথে একটি মূল পার্থক্য হলো—তখন বড় আকারের ভিএলসিসি কার্গোগুলো একসাথে মার্কেটে চলে এসেছিল। বর্তমানে রপ্তানি বৃদ্ধির প্রক্রিয়াটি অনেক ধীরস্থির; তাই এটিকে হঠাৎ সৃষ্ট বাড়তি সরবরাহের চেয়ে বরং বাড়তি সরবরাহ পরিস্থিতির সূচনা বলেই বেশি মনে হচ্ছে। তবুও, আলোচনার বিষয়ে আগের প্রত্যাশাগুলো পূরণ হয়নি; তাই উভয় পক্ষ থেকেই এখন কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে হলেও, সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

অন্যান্য মার্কেটে ওপর এর প্রভাব স্পষ্ট। জ্বালানি তেলের দরপতন ঘটলে তা মুদ্রাস্ফীতির চাপ শিথিল করে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দুশ্চিন্তা কমায়, যা স্বর্ণের জন্য ইতিবাচক। সোমবার এই মূল্যবান ধাতুটির দর 1.9% বেড়েছে। রাজনৈতিক দিক থেকে, জ্বালানি মূল্য যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনের একটি অন্যতম প্রধান ইস্যু। ট্রাম্প নির্বাচনের পর জ্বালানির মূল্য কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা মার্কেটের সামগ্রিক পর্যালোচনায় নতুন একটি মাত্রা যোগ করেছে।

আমি আশা করছি, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানির পরিমাণ সংঘাত-পূর্ববর্তী মাত্রার কাছাকাছি থাকায় আগামী সেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। তবে আলোচনা ভেস্তে গেলে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন ঘটতে পারে—এক্ষেত্রে নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনটি উল্লেখযোগ্য, যেখানে বলা হয়েছে যে নির্বাচনের পর ইরানের ওপর হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার ওপর ট্রেডারদের বাজি

জ্বালানি তেলের মূল্যের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের জ্বালানি তেলের মূল্যকে নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $98-এ নিয়ে যেতে হবে। এতে করে জ্বালানি তেলের মূল্যের $101-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $105 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। যদি তেলের দরপতন হয়, তাহলে মূল্য $95-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। তারা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তেলের মূল্য $92 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, যেখানে পরবর্তীতে $89 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনাও রয়েছে।

* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account