জুম — “মহামারীর সুযোগ” থেকে এআই অ্যাসেট
![]()
২০২০ সালে জুম ব্যবসায়িক যোগাযোগের মাধ্যমে থেকে সার্বজনীন যোগাযোগের মাধ্যমে রূপান্তরিত হয়। মহামারীর কারণে ভিডিও কল বাধ্যতামূলকভাবে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছিল। মাত্র তিন মাসে জুম সেই পরিমাণ অর্থ আয় করেছে যা তারা বছরের পর বছর ধরে আয়ের পরিকল্পনা করেছিল। মহামারী পরবর্তী সময়ে হঠাৎ করে প্রাথমিক উন্মাদনা থামার পর, জুম আবারও জেগে ওঠে। কোম্পানিটি ক্লড চ্যাটবটের ডেভলপার অ্যানথ্রোপিকের সাথে অংশীদারিত্বে যুক্ত হয়, যেটির বাজার মূলধন এখন প্রায় $৪ বিলিয়ন। ফলে কোম্পানিটির শেয়ারের মূল্য ৩.৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এনভিডিয়া — তিন দিক থেকে সৌভাগ্যের ঢেউ
![]()
সুযোগ কাজে লাগানোর দিক থেকে এনভিডিয়া অনবদ্য চ্যাম্পিয়ন। প্রথমত, ক্রিপ্টো‑মাইনিং যুগের সম্প্রসারণের সময় কোম্পানিটির গ্রাফিক্স কার্ডগুলো ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করে। এরপর জেনারেটিভ এআই-এর যুগ শুরু হয় এবং এনভিডিয়ার চিপ (A100/H100) হয়ে ওঠে “নতুন স্বর্ণ।” গেমিংয়ের জন্য ডিজাইন করা প্রযুক্তি প্রথমে ইথেরিয়াম মাইনিং এবং পরবর্তীতে নিউরাল নেটওয়ার্ক ট্রেনিংয়ের জন্য আদর্শ বলে প্রমাণিত হয়। ফলে ২০২৫–২০২৬ সালে কোম্পানিটির বাজার মূলধন $৫ ট্রিলিয়নেরও বেশি ছাড়িয়ে যায়। বর্তমানে এনভিডিয়া বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বাজার মূলধনসম্পন্ন চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, যা ধারাবাহিকভাবে গেমিংয়ের পাশাপাশি আরও দুইটি কার্যকর সুযোগ সফলভাবে কাজে লাগিয়েছে।
ডিসকর্ড — গেমারদের আলোচনার জায়গা থেকে “ডিজিটাল লিভিং রুম”
![]()
শুরুতে ডিসকর্ড ছিল ফোর্টনাইট খেলোয়াড়দের আড্ডাস্থল। মহামারী ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষ অপ্রাতিষ্ঠানিক আড্ডার জায়গা খুঁজতে শুরু করে। সেইসময় প্ল্যাটফর্মটিকে “আলোচনার স্থান” হিসেবে রিব্র্যান্ড করা হয় এবং এটি শুধুমাত্র গেমারদের জন্য এই তকমা তুলে ফেলা হয় এবং পরবর্তীতে বাড়ি ও কাজের মাঝখানে তৃতীয় স্থান হয়ে ওঠে। ফলস্বরুপ ডিসকর্ড পড়াশোনার গ্রুপ থেকে ক্রিপ্টো কমিউনিটি সবার মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। এক বছরে কোম্পানিটির বাজার মূলধন $৭ বিলিয়ন থেকে $১৫ বিলিয়নে পৌঁছায়।
ইটসি — মাস্ক বিক্রি করে বেঁচে যাওয়া মার্কেটপ্লেস
![]()
২০২০ সালের শুরুতে ইটসি খুব বেশি প্রবৃদ্ধি প্রদর্শন করতে পারছিল না। কিন্তু মেডিকেল মাস্কের ঘাটতির কারণে হস্তশিল্পের এই মার্কেটপ্লেসটি মাস্কের কৌশলগত উৎসে পরিণত হয়। সিডিসি কাপড়ের তৈরি মাস্ক পরার পরামর্শ দেয়ার পর এক মাসের মধ্যে ইটসির ৬০,০০০ বিক্রেতা সক্রিয়ভাবে মাস্ক বিক্রি করা শুরু করে। মাস্ক বিক্রির পরিমাণ প্ল্যাটফর্মটির টার্নওভারের ১৪%-এ পৌঁছে যায়, এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ যারা শুধুমাত্র মাস্কের জন্য এসেছিল তারা আস্তে আস্তে আসবাবপত্র ও গৃহস্থালী সাজসজ্জাও কিনতে শুরু করে—ফলে কোম্পানিটির মুনাফা দ্বিগুণে পরিণত হয়।