logo

FX.co ★ Tofazzal Mia | ইরানের সাথে শান্তি আলোচনা সত্ত্বেও সরবরাহ ঘাটতির কারণে জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ছে

ইরানের সাথে শান্তি আলোচনা সত্ত্বেও সরবরাহ ঘাটতির কারণে জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ছে

ইরানের সাথে শান্তি আলোচনা সত্ত্বেও সরবরাহ ঘাটতির কারণে জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ছে


বেইজিং সামিটের সমাপ্তির পর জ্বালানি তেলের দর স্থিতিশীল ছিল—ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যকার বৈঠকটি ইতিবাচক ছিল এবং উভয় নেতাই পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগগুলোর ওপর জোর দিয়েছিলেন; তবে, এই সামিট থেকে জ্বালানি খাত সম্পর্কিত এমন কোনো সুনির্দিষ্ট চুক্তি হয়নি যা চলমান পরিস্থিতির বদল আনতে পারে। বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুডের দর ব্যারেল প্রতি প্রায় $106-এ অবস্থান করছে, আর WTI-এর দর প্রায় $101-এর আশপাশে অবস্থান—উভয়ই $100-এর ওপরে স্থিতিশীল আছে। তবে আজকের দিনের প্রধান খবরটি বেইজিং থেকে আসেনি; এটি এসেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) থেকে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার মতে, মার্কিন-ইরান সংঘাতের কারণে বিশ্বব্যাপী তেলের মজুদে রেকর্ড পরিমাণ ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, এমনকি যদি আগামী মাসেই যদি সংঘাতের সমাপ্তি ঘটে, তবুও অক্টোবর মাস পর্যন্ত জ্বালানি তেলের গুরুতর ঘাটতি বজায় থাকবে। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: যেসব বিনিয়োগকারী সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির পরপরই তেলের মূল্য দ্রুত কমে আসবে বলে আশা করছেন, তারা সম্ভবত ভুল হিসাব কষছেন। তেলের মজুদ পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা কোনো সহজ প্রক্রিয়া নয়; তাছাড়া বেশ কয়েক মাস ধরে চলা কাঠামোগত ঘাটতির অর্থ হলো, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ফলাফল যা-ই হোক না কেন, তেলের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। একই সাথে, সংঘাত নিরসনের সম্ভাবনাও বেশ অস্পষ্ট বা ধোঁয়াশাচ্ছন্ন রয়ে গেছে। এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, কিন্তু এরপর থেকে বেশ কয়েকবার পরিস্থিতি পুনরায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান—উভয় দেশই মৌলিক মতপার্থক্য নিরসন কিংবা কোনো শান্তি চুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে দৃশ্যত উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি অর্জন করতে পারছে না। অন্য কথায়, মার্কেটে বর্তমানে একটি 'নড়বড়ে স্থিতিশীলতা' বজায় রয়েছে—মাত্র একটি গুরুতর ঘটনাই তেলের মূল্যকে আবারও আকাশচুম্বী করে তুলতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে যে, বেইজিং থেকে ফিরে আসার পর ট্রাম্প ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করবেন এবং আবারও হুমকি-ধামকি দেয়া শুরু করবেন। এই প্রেক্ষাপটে, বেইজিং সামিটের ফলাফল জ্বালানি তেলের খাতের জন্য মূলত একটি 'নিরপেক্ষ উপাদান' হিসেবেই প্রতীয়মান হচ্ছে। ট্রাম্প এবং শি জিনপিং আশাব্যঞ্জক বক্তব্য বিনিময় করেছেন এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে একমত হয়েছেন; তবে, সম্মেলনের প্রকাশ্য আলোচ্যসূচিতে বাণিজ্য এবং তাইওয়ান ইস্যুর তুলনায় মধ্যপ্রাচ্যের বিষয়টি অনেক কম গুরুত্ব পেয়েছে। এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ট্রেডাররা বর্তমানে কূটনৈতিক সমাধানের চেয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্যের ওপরই অধিক মনোযোগ দিচ্ছে: পরিসংখ্যানই এখানে আসল সত্য তুলে ধরছে—জ্বালানি তেলের ঘাটতি সহসাই দূর হচ্ছে না, এবং ট্রেডাররাও এই বাস্তবতাটি পুরোপুরি অনুধাবন করতে পারছে।

ইরানের সাথে শান্তি আলোচনা সত্ত্বেও সরবরাহ ঘাটতির কারণে জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ছে


টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের তেলের মূল্যকে নিকটতম রেজিস্ট্যান্স $106.80-এ পুনরুদ্ধার করতে হবে। এতে তেলের মূল্যের $113.80-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে প্রায় $120.00-এর লেভেল নির্ধারণ করা যায়। অন্যদিকে দরপতন হলে তেলের মূল্য $100.40-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। যদি তারা সফল হয়, এই রেঞ্জ ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনগুলোর ওপর গুরুতর আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তেলের মূল্য $92.50-এর দিকে নেমে যেতে পারে, এবং $86.60 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনা রয়েছে।
Read more: /bd/analysis/446060
* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Read this post on the forum Open trading account